MOBILE VERSION

popular-recent

Recent Posts
     
 
TranslationTranslation PoetryPoetry ProseProse CinemaCinema
Serialধারাবাহিক
Weekly
Weekly
Visual-art
Art
ReviewReview
Web IssueWeb Issue InterviewInterview Little-MagazineLil Mag DiaryDiary
 
     

recent post

txt-bg




top

top












txt

Pain

আড্ডা, সাবেকী ভাষায় Interview
আমার জীবন থেকে উঠে আসা সুর
এখনো অ্যানাউন্সমেন্ট হয় নাই, আসবে কি না জানা নাই
ব্যথার পূজা হয়নি সমাপন

আমার জীবন থেকে উঠে আসা সুর | প্রজ্ঞাদীপা




                       বিষাদসংহিতা | প্রজ্ঞাদীপা হালদার


[taken from: প্রচ্ছদ, তোত্তো চান | তেৎসুকো কুরোনায়াগি]

(১)
“সিংহী মামা কাটুম, আন্দী বোসের বাটুম
আমাদের জানলার পিছনে এঁদো ডোবা, তার পিছনকার নারকেল গাছে একানড়ে থাকতো। মা দুপুরবেলায় দাদামশাইয়ের বাড়ি বই পড়তে আর লিখতে যেতেন। চিরকালের তালগাছ ছেড়ে কেন যে একানড়ে নারকেল গাছে বাসা বেঁধেছিল কে জানে। মাসি-পিসি বনগাঁ-বাসী,তাই কলেজে যেতো বেড়াতে। বাবা আর দিদিভাই ইস্কুলে। পাঁচিলে নিঝ্‌ঝুম দুপুরে দোয়েলে শিস দিত। লেবুফুল ফুটত শীতের শেষে। টগর গাছের তলা দিয়ে সাপ চলে যাবার মসৃণ দাগ পড়ে থাকতো ধুলোর উপর। তার উপরে ধুলোটে ধোকট পেতে আমি হ্রদের পাশে বাড়ি, সারি সারি রেইনট্রি এঁকে মনের সুখে রঙ করতাম। সেই সব বিকেলে রোজ রামধনু উঠত আকাশে। একানড়ের তোয়াক্কা না করে টিয়ার ঝাঁক নারকেল গাছের কোটরে ঢুকে পড়ত।
এই বাড়িটা আমি আমার আটবছর বয়েসে ছেড়ে চলে আসি। বাড়ির দেওয়ালে প্রতিমাসে পেন্সিলের দাগে মা আমার উচ্চতা মাপতেন। আমি বানান করে লিখে রেখেছিলাম “সিংহী মামা কাটুম, আন্দী বোসের বাটুম”আমাদের পাথরকুচি গাছের লম্বা ডাঁটি ভরে ফুল এলো। দিদিভাই আর আমার পোঁতা ডালিমগাছে পিংপং বলের মতো ডালিম। আমাদের সাদা ছাঁচের সরস্বতী, এসব পিছনে ফেলে আমরা নতুন ঠিকানায় চললাম।
সেই অবধি ব্যথা শব্দে আমি স্মৃতিজাগানিয়া হই।
(২)
বড় বেদনার মতো বেজেছ তুমি হে...
এইসব পড়ন্ত দুপুরের ক্ষয়া-খর্বুটে রোদ দেখলে বড্ড কষ্ট হয় আমার। যেন কোন অতীত থেকে এই সব ভাঙা ভাঙা রোদ্দুর এসে পড়ে থাকে আমার গলি-টলিতে। পুরোটা আসতে পারেনি বলে তাদের কষ্ট হয়। আমিও অতীত থেকে পুরোপুরি নেমে আসতে পারিনি এই বাস্তব উঠোনে, তাই আমারও কষ্ট হয়। এইসব রোদ দেখলেই আমার মনে পড়ে পিঙ্কিদের বাড়ির ফাঁকা মাঠটায় ছেঁচা বাঁশের বেড়া দিচ্ছে সিধুয়া কাকু। ঘাস পরিষ্কার করে, কাঁটা বেগুনের ঝোপ (গাছ থেকে ফল নিয়ে মা ছাদের রোদে শুকোবেন, সকালে স্কুল যাবার আগে ভাতের পাতে খেতেই হবে। কান্না চেপে রাখবো, হিংসে করব অন্য বাড়ির ছেলেমেয়েদের, যাদের রোজ তেতো খেতে হয় না। মা বলবেন খেয়ে নাও, শাস্ত্রে এর নাম বৃহতী, বাতনাশক) কেটে আপেলশামুকদের গোটা পল্লী উৎখাত করে চুন দিয়ে দেবে। তারপর টোনসুতোর গোছা হাতে বাবা আর বড়মামা, দিদিভাই, আমি, নোটোন, টিটো, নামবো। ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাটা হবে। ফেদার আসবে প্রয়োজনী স্টোর্স থেকে। আমাদের নীল রঙের র‍্যাকেট। খেলতে পারিনা বলে আমাদের কেউ খেলতে নেবে না। শুধু সন্ধ্যেবেলায় আমার আর নোটনের দায়িত্ব নেট-র‍্যাকেট গুছিয়ে ঘরে তোলা। তাই সন্ধ্যে হয়ে গেলেও আমি আর নোটন খেলতে থাকি একটা বাতিল ফেদার দিয়ে। এই দ্যাখ্‌ আমার সার্ভিসএই দ্যাখ্‌ ব্যাক রিটার্ণএই দ্যাখ বড়মামার মত চাপ মারলাম

মাথার উপরে কুণ্ডলী পাকানো মশার দল দর্শক হয়ে গুনগুনায়, আর সাবাশী দেয় আমাদের।
(৩)
কেমন ব্যথা লাগে একলা হয়ে যেতে? আমাকে উৎসব শিখিয়েছে। জগতের আনন্দযজ্ঞে সবার নিমন্ত্রণ জেনে আমি নৈঃশব্দ্যে ডুবে যাই। যেখানে মাথার ভিতর রক্তের প্রবাহ শব্দময় হয়। নির্বাক চলচ্চিত্রের মত চরিত্রেরা নড়াচড়া করে। সচন্দনগন্ধপুষ্পসজ্জা। আমি যেন শুধু চোখ ছাড়া বাকি ইন্দ্রিয় বন্ধক রেখেছি। আমি হাসতে পারি, কলের পুতুলের মত অভিবাদন জানাই, খস্‌খসে সিল্ক টেনে নিয়ে, গায়ে প্রসাধন দিয়ে শবগন্ধ চাপা দিই। লোকে বুঝতেই পারেনা আসলে তাদের সামনে আমি নেই, আশ্চর্য উপায়ে রক্ষিত একটা মৃতদেহ আছে। সুপ্রাচীন। ঠোঁটে পিঙ্ক পাউট নামের লিপস্টিক লাগিয়ে যে হাসলে কেউ বুঝতেই পারে না যে ওটা আমি নই।
অন্য একজন। অন্য কেউ।
(৪)
পুজোর আগে আমাদের হাফ-ইয়ার্লি পরীক্ষা শেষ হত। শেষ পরীক্ষা দিতে দিতে ভাবতাম মাসি (ছোটোমাসিকেই মাসি বলে ডেকেছি যাবৎচন্দ্রার্কমেদিনী) নিশ্চয়ই পুজোর জামা রেখে গ্যাছে। নিশ্চয়ই স্কার্ট-ব্লাউস দিয়েছে এবার। তড়বড়ে সাইকেল নিয়ে টলটলে সব পুকুর, অনৈসর্গিক হরিৎসঞ্জাত গাছের ঘেরাটোপ, শিস দেওয়া দোয়েল পেরিয়ে বাড়ি ফিরতাম। আজ ছুটি। ছাদের এককোণে বসে পূজাবার্ষিকী পড়তাম। তেলতেলে পাতার আনন্দমেলা। খস্‌খসে কিশোরভারতী। নিউজপ্রিন্টের গন্ধওয়ালা শুকতারাদীর্ঘ প্রবাস সেরে নিকটজন ফিরে আসতো। কাকাবাবু-সন্তু, কিকিরা-তারাপদ-চন্দন, পঞ্চ পাণ্ডব, অদ্ভুতুড়ে সব আশ্চর্য্য দেশের গল্প। অরণ্যদেবের কিলাউইএর সোনা বেলার রোম্যান্টিক স্ট্রিপ। লরেন খাদিমস্‌ এর দেওয়া একটা কুমীরের মুখোশ হাতে করে বেড়াতে আসতো বিকেলে। আর ঝিমঝিমে সেই বিকেলে অমন একটা মুখোশের আকাঙ্ক্ষা বুকে বাবার সঙ্গে জুতোর দোকানে যেতাম। ভেল্‌ক্রো (কুরকুরে) লাগানো বা কোলাপুরী চটি কিনে আমাদের বাজার সাঙ্গ হত।
দিদিভাই আর আমি খাতার পিছন পাতায় হিসেব করতাম কোন দিন কোন জামা পরবো, সাথে কি গয়না। কি খাবো, মা রেঁধে দেবেন তারও লিস্টি হত। সেই মত পয়সা জমিয়ে মোনালিসা থেকে কিনে আনতাম ডলফিন ঝোলানো হার। রুপালী ঝুমকো।
লিখতে লিখতে মনে পড়ে গেলো সেই পুজোর কথাও। যে পুজোয় আমরা দু’বোন হাত ধরাধরি করে দলের পিছনে হাঁটছিলাম। আমাদের রসিকতায় উত্তর দিচ্ছিল না কেউ। আমি পা দিয়ে ইঁটের টুকরোয় শট দিতে দিতে ভাবছিলাম এটাকে বাড়ি নিয়ে যাবো। আচ্ছা, কক্ষনো কি আমি ভেবেছি যে ইঁটের টুকরোও আমার সঙ্গে বাড়ি ফিরতে না চাইতে পারে। সেই দুহাজার দুই-এর ডায়েরী ঘেঁটে দেখতে পাই আমি কলাইন কবিতা লিখেছি-
পুজোর হাজার ভিড়ে আমি একা,
পাথর টুকরো, নতুন জুতোর ঠোক্করে সরে যাই,
যাবো ভাবি।
কতদিন ধরে ভাবি হৃদয়ান্তরে সরে যাবো
সেই আমার প্রথম আন্ধারে ঢোকা, যে ব্যূহে আমি প্রবেশ শিখেছি, নিষ্ক্রমণ নয়...
(৫)
যশোর রোডের পাশে যত ছাতিম গাছ ছিল অকারণে কাটা পড়েছে গত বছর। আগে সারা রাস্তা আচ্ছন্ন হয়ে থাকতো গাঢ় মিষ্টি গন্ধে। আজকাল গাছগুলো নেই, কিন্তু আমি গন্ধ পাই। গন্ধের স্মৃতি থাকে? দিদুর গায়ের গোপাল জর্দার গন্ধ। মায়ের ঘাম-মশলার গন্ধ। পানা পুকুরে জল ভরে ওঠার গন্ধ। বর্ষারাতের গুরুভার কদম। দাদামশাই এর ঘরের মিষ্টি মিষ্টি গন্ধ। কোনকালে ঘরোয়া পিকনিকে খাওয়া মাংসের সুবাস। এসব ছাপিয়ে আজকাল আমি ভাঁড়ারের গন্ধ পাই। ফুরোনো খেতের গন্ধে এইখানে ভরেছে ভাঁড়ার
ভাবলে কান্না পেতো যে একদিন বাবা-বড়মামা বুড়ো হবেন। একটা-দুটো রুপালী রেখার বদলে সারা চুলে তুষার গড়াবে। আমাদের ব্যাডমিন্টন খেলা আর হবে না। আমরা দূরে দূরে ছড়িয়ে যাবো। অথচ আজকাল বাবা পড়ার টেবিল ছেড়ে উঠতে চান না। চায়ের কাপ ধরতে গেলেও বড়মামার হাত কাঁপে। আজ কত বছর হয়ে গেলো আমিও ব্যাডমিন্টন খেলার সময় পাইনা।
যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আচ্ছন্ন করেছিল, কত সহজে তা গ্রহণ করেছি দেখে চমকিত হই।
ভারী আশ্চর্য্য না????
তাই শূন্যতার উৎকেন্দ্রে ভেসে উঠি। মসৃণ দোলকে বাঁধা সময়। অনেক দিন আগে কারো তোলা ছবি মনে পড়ে যায়। অস্ত্রহীন হাতে কাশের গুচ্ছ, বিসর্জনে দেবীর শিল্যুয়েট। রোদ ঝলকানো শরতের পটভূমিতে সেই ছবি ভাবলেই আজও আমার শিরদাঁড়ায় শীতের কাঁপন লাগে। খুব বেশী দূরে ঝরাপাতার দিন নেই আর।
(৬)
“আর সবই শহরের কবিতা, কেবল এইটে প্রান্তরের।
আর সবই মৃত্যুর কবিতা, কেবল এইটে জীবনের।
আর সবই আমার কবিতা, কেবল এইটে তোমার।
এইটে উপচে পড়া সমুদ্রের পূর্ণ টান, কি কি যেন বাকি ছিলো, ব্যথা দেওয়া হলো কাকে অকারণে, একদিন হাঁটুজল ভেঙ্গে চলে যাওয়া, বসন্তের উড়ো চুল, হাসাহাসি করে লোকে, নিচু হয়ে বুকে তুলে নেওয়া সমস্ত পথের ধুলো, হাজার হাজার পাতা উড়ে যাওয়া আসন্ন ঈশান।
আর সবই গঙ্গার কবিতা কেবল এইটে যমুনার”
(৭)
ব্যথা সম্পর্কে জানার জন্যে আমি নিকটজনের সঙ্গে অনতি দীর্ঘ্য বাক্যালাপে যাই। যা ফল হয় তা নিম্নরূপ-
কেউ ব্যথা বলতে মাথার ভিতরে প্রোথিত যন্ত্রণা বোঝেন।
কেউ মা বুঝে থাকেন।
কেউ ব্যথা মানে তীব্র অপমান। “ তুমি আমাকে আর ফোন করবে না”
কেউ ব্যথা বললে চোখ বুজে দ্যাখে শহরের ইস্কুলে বাবা তাকে রেখে চলে যাচ্ছেন বাড়ির দিকে।
কেউ ব্যথা মানে নীরবতা।
আমি ব্যথা শব্দে শুধু স্মৃতি নয় ব্যথাহীনতা বুঝে থাকি।  
(৮)
একই যন্ত্রণা পাবে, একই ব্যথা ডেকে যাবে
নেভা নেভা আলো যত বার জ্বালো
ঝোড়ো হাওয়া লেগে তার শিখা নিভে যাবে।।
ব্যথা তেমন ভালো আসে না আমার। আমি বরঞ্চ বিষাদ ভালোবাসি। অন্ধের মতো হারমোনিয়ামের রীড টিপে আমি ব্যথা আর বিষাদের সুর আলাদা করি। কড়ি মা ব্যথার, আর কোমল নি তে বিষাদ খেলে ওঠে। রঙ দিয়ে বোধহীন চেনাচিনি হয়। ব্যথার গাঢ় নীলের চাইতে বিষাদের ধুসরেই বেশী মানায় আমায়।
তার চেয়ে বরং ভাবি এ জীবন তো শুধু ছোটখাটো চাওয়া-পাওয়া আর বাসনার। একথা বুঝতে ভুল হলে বেঁচে থাকাই মিথ্যে।
আজকাল কি হু হু হাওয়া দেয়। আকাশে কি ভীষণ গ্লোরিয়াস চাঁদ। এসব সন্ধ্যেয় রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে মনে হয় নিজেকে যদি ন্যাংটো করে সুরতহাল যদি না করতেই পারি তবে আর মানুষ কিসের?
আমি দিব্যি ভেবে নিই আমি আদ্যপান্ত ভালো, ততোধিক ননীসম ব্যবহার আমার, তার চেয়েও উচ্চকিত আমার সংযম। যেন আমি জীবনে খারাপ কথা বলি না। রাত জেগে নীল ছবি দেখিনা, মনে মনে খিস্তি দিইনা কাউকে। যেন বিপরীত লিঙ্গের প্রতি কোনো প্রেম কোনো কাম নেই আমার কোনোদিন। রাত্তিরে ঘুম থেকে উঠে কোমরের খাঁজে জমা মেদের স্তূপ দেখে কোনোদিন ভয় পাইনা।
অথচ দিব্যি জানি এসব রঙের ভাঁজ খুলে মধ্যরাত্রে উঠে আসে উলিঝুলি পাগল। বিড়বিড়িয়ে গাল দেয়, নাক খোঁটে, হাত পেতে বসে থাকে দরজার পিছনে, মাঝে মাঝে গলা খাঁকড়িয়ে বলে- “শাল্ললাহ্‌.........।”
কত বাসনাই বাকি থেকে গেছে। “আমায় অনেক দিয়েছো নাথ” বলে সে জ্বালাপোড়া এড়ানো যায়নি। কত না বলা কথা, কত না পাওয়া, কত অনুযোগ, কত স্বীকারোক্তি দিয়ে ভরা থাকে আমাদের শান্ত জীবনের ফাঁকগুলো।
কখনো কি বলেছি ইস্কুলে ফেয়ারী ডান্সে আমায় নিতো না রোগা, কালো আর বেঁটে বলে? বলেছি কখনো সাদা লেসের ঐ জামাটার জন্যে কি ভীষণ আকুলতা ছিল? যদি নাচি, তবে মা কিনে দেবে, আমারও হবে ওরম সাদা লেসের জামা। এটা কি কেউ জানে আমার সেই দশ বছর বয়েসের স্বপ্নে ঠাসা ছিল শুধু লেসের জামা? সাদা, লাল, গোলাপি, বেগুনী...
মা বড্ড বকতেন পড়াশুনো করার জন্যে। ক্লাস টু তে পড়তে বাঁ পায়ের তলায় নীল কালির পেনে লিখে রেখেছিলাম – “মা মরে গেলে ভালো হয়।” তারপর বাথরুমে গিয়ে পা ঘষলেও সে লেখা ওঠেনি। রাতে ঘুমলে মা ঠিক দেখে ফেলেছিলেন। মধ্যরাতে মায়ের সে দুঃখিত মুখ, মায়ের মৃত্যুকামনার অপরাধে আজো এই বুড়ো বয়েসে মন দেওয়ালে মাথা ঠোকে...
আরো ছোটোবেলায় বড্ড ইচ্ছে হত একটা কাঠের ঘোড়া থাকবে আমার।দোলবার জন্যে, যেমন ছবি আছে গজমোতির মালা বইতে। তারপরে ইচ্ছে ছিল কাকলিদির মত একটা মস্ত ধব্‌ধবে পুতুল। যার মুখের চাবি খুললেই বলে ওঠে “মাম্মাম্‌...” বায়না করায় বাবা ফুলুমামাকে বলেছিলেন “বাবু,শিলিগুড়ি থেকে নিয়ে এস তো অমন একটা পুতুল।”
দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফুলমামা যখন নড়বড়ে প্লাস্টিকের হাতভাঙ্গা পুতুল, মাথায় শনের নুড়ি চুল, তাতে প্লাস্টিকের ছোট্ট বাদামী ফুল গোঁজা এনে দিয়েছিলো তখন আশাভঙ্গের কি যে ব্যথা, সেকি ভুলে গেছি আজ?
আমার একটি মাত্র জুতো ছিল। কেডস্‌। স্কুলেও চলতো, বিয়ে বাড়ীতেও। আরতি মাসি শিখিয়ে দিয়েছিল পায়ের গোড়া দিয়ে ফিতে বাধতে। বলতো “লোকে ভাববে নর্থস্টার”সে যে ঠাট্টা , তা কখনো বুঝিনি। সমীর মামার বিয়েতে ঐ জুতো পরে গেলে সক্কলে খুব হেসেছিল। লজ্জায় এককোণে দাঁড়িয়ে ছিলাম, কে যেন আরো ঠাট্টা করে হাতে জুতোর ট্রে দিয়ে গেলো। সেদিনের সুখাদ্যে গিলে ফেলা চোখের জল আজো যে আমায় বিয়েবাড়ির উৎসবে মিশে আছে।
এমন তো আরো কত কিছু আছে, পুজোর সময় না চাইতেও একটা জামা রেখে বাকিগুলো অন্যদের দিয়ে দিতে হত। অপর্ণা পিসির দেওয়া প্রজাপতি বসানো জামাটা মা আমাকে না বলেই সায়ন্তীকে দিয়ে দিয়েছিলেন। হিংসে করিনি, রাগও না। কিন্তু আমারো যে বাসনা ছিল পুজোয় চার দিন, চারটে জামা পরার। এগারো ক্লাসে সব মেয়েরা স্কুল ড্রেস বানালো, আমায় বাবা কিনে দিলেন শ্রীদূর্গা থেকে। বিশাল বড়। মা ডিক্লেয়ার করলেন “কেউ জামা মেরে দেবে না, ঐ পরেই স্কুলে যেতে হবে”আমি তা শুনবো কেন? সেই তো আমার ফ্যাশন সচেতন হবার কাল। খাতাসেলাই-এর সূচে নীল উল পরিয়ে নিজেই টেকে নিলাম। অথচ দিব্যি জানতাম হাত তুললেই সেই নীল সেলাই উঁকি মারে।
আরো বড় হয়ে কতদিন পারিবারিক ভাবে অপরাধী সাব্যস্ত হবার কারণে বাবা ছাড়া আর কেউ আমার সাথে এক টেবিলে খেতো না।
কোনোদিন বলেছি এসব ভাবলে কেমন যেন আলজিভ ব্যথা করে?
আমার তো বরাবরই টনসিলের দোষ। কিন্তু কে যেন প্রমাণ করে দিয়েছেন মৃত্যুর পরেও বাসনার অন্ত হয় না???
এই বুড়ো বয়েসেও আমার স্যাঁতসেঁতে নীচের ঘরটায় শুয়ে দেওয়ালে টাঙানো কালো ঝোলাটা দেখতাম আর খাতাপত্র
, আর ব্যাঙ্কে জমানো সামান্য টাকা সম্বল করে পাখিদের মত অনন্তযাত্রার কথা ভেবেছি, শুধু সিঁড়ি অবধি গিয়ে তালাটাই খোলা বাকি ছিলো কোনোদিন বলেছি সে কথা???
---




 | |


আড্ডা, সাবেকী ভাষায় Interview



আমার জীবন থেকে উঠে আসা সুর


এখনো অ্যানাউন্সমেন্ট হয় নাই, আসবে কি না জানা নাই


আড্ডা, সাবেকী ভাষায় Interview



আমার জীবন থেকে উঠে আসা সুর


এখনো অ্যানাউন্সমেন্ট হয় নাই, আসবে কি না জানা নাই

No comments:

Post a Comment