MOBILE VERSION

popular-recent

Recent Posts
     
 
TranslationTranslation PoetryPoetry ProseProse CinemaCinema
Serialধারাবাহিক
Weekly
Weekly
Visual-art
Art
ReviewReview
Web IssueWeb Issue InterviewInterview Little-MagazineLil Mag DiaryDiary
 
     

recent post

txt-bg




top

top












txt

Pain

আড্ডা, সাবেকী ভাষায় Interview
আমার জীবন থেকে উঠে আসা সুর
এখনো অ্যানাউন্সমেন্ট হয় নাই, আসবে কি না জানা নাই
ব্যথার পূজা হয়নি সমাপন

যখন ধোঁকা খেতে ভালোলাগে– ওয়াইন আঁতলামো - সুকান্ত ঘোষ

মদ ( গদ্য)

বাকি পড়তে ক্লিক করুন
|যখন ধোঁকা খেতে ভালোলাগে– ওয়াইন আঁতলামো - সুকান্ত ঘোষ

খোকা দেখি নতুন কি শিখেছ তুমি?  বলো তো অ্যাকোলন, ব্লাটিনা, কলোরিনো, ডর্ণফেল্ডার, এস্পাডিয়েরো, ফ্রাপাটো কারে কয়? রিয়োজা, মোসেল, কিয়ান্তি এই সবই বা কি জিনিস! জানো না ঠিক আছে – কিন্তু নতুন কিছু শিখতে ইচ্ছে করে না তোমার? এই কাদা, গোবর, আউশ, আমন, আলুর বণ্ড এই সব নিয়েই থেকে যাবে?
যত বয়স বাড়ছে আমার ধারণা ক্রমশঃই বদ্ধমূল হচ্ছে। এটা একটা স্ট্যাণ্ডার্ড স্টেটমেন্ট দিলাম – যাদের তর্ক করার প্রবণতা আছে তাঁরা জানতে চান কি বিষয়ের ধারণা? তখন আমাকে বাধ্য হয়েই সেই ফাটা রেকর্ড বাজাতে হয় –আমার ভিতর এই মৌলবাদ ধীরে ধীরে গেড়ে বসেছে যে আদপেই নতুন জিনিস বলে কিছু হয় না। অর্থাৎ নতুন আসলে নতুন নয়! তাহলে ‘নতুন’ কাকে বলব আমরা? নতুন এক ভ্রম মাত্র। মনে রাখবেন আমি এখানে ইনোভেশন আর ডিসকভারী এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আরো একবার প্রমাণ করার জন্য এই লেখা ফাঁদে বসি নি। আমার এখনকার মতামত প্রায় ফ্লোটিং, অনেকটা বদ্ধমূল, কিছুটা প্রমাণিত, বেশ তথ্যভিত্তিক মস্তিষ্কের রাসায়নিক বিক্রিয়া মাত্র।
অর্থাৎ এখানেও আমি নতুন কিছু বলতে পারব না। তবে যেটা অন্য অনেক লেখকের মত পারব সেটা হল এখান ওখান থেকে খাবলে খুবলে খিচুড়ী পাকাতে। সমস্ত স্বতস্ফূর্ত, স্বেচ্ছেচারী, আকাঙ্খিত ও ফালতু লেখকদের মোটো একটাই – ইফ ইউ কান্ট কনভিন্স, দেন কনফিউজ। এই ধরুণ কেউ কেউ এখনও বলে উড়োপ্লেন নাকি রাইট ভাইদের আমদানী করা বাজারে নতুন জিনিস – অথচ আপনি আমি সেই কবে থেকে জানি আমাদের দেশে সেই কত্ত আগে থেকে পুষ্পক রথ ব্যবহার করা হত! টেলিভিশন? ছোঃ – সঞ্জয় সেই কবে ধৃতরাষ্ট্রকে কুরুক্ষেত্রের লাইভ টেলিকাষ্ট রিলে করে শোনাত। এমন অনেক উদাহরণ আছে – মনে হয় বাজারে এই নিয়ে বইও পাওয়া যায় আজকাল। তবলে এই সব আজেবাজে প্রশ্ন তুলবেন না যে পুষ্পক রথ তা হলে কোন সময় নতুন ছিল কিনা ইত্যাদি।
আমরা আজকাল নতুন বলে যা দাবী করি তা সবই আসলে নতুন বোতলে পুরানো ওয়াইন মাত্র।  এই ওয়াইন বিষয়টি আমাকে বহুদিন ধরে ধ্বন্দে রেখেছে। রেড ও হোয়াইট দুই ধরণের ওয়াইন নিয়ে দুনিয়ায় এত্যো আঁতলামো চলে যে তা মাঝে মাজে মানসিক সহ্য সীমানার প্রান্তে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করায় লেভেল হেডেড পাবলিকদের। আমি নিশ্চিত যে আমার মত আপনাদেরও এটা মনে হয়েছে কোন কোন সময় যে এ্যাতো আদিখ্যেতা করার আসলেই কোন কারণ আছে কি ওয়াইন নিয়ে? সত্যিই কি শুধুমাত্র একটু চুমুক দিয়ে কুলকুচি করে গিলে নিয়ে বলে দেওয়া সম্ভব ওয়াইনের ঠিকুজি কুষ্টি! না, আমি শুধুমাত্র ওয়াইন-এর ব্র্যাণ্ড শনাক্ত করার কথা বলছি না – কত সালের মাল, কার জমিতে তৈরী, সেই জমিতে কৃত্রিম সার নাকি মুরগীর হ্যাগস দেওয়া হয়েছিল কিনা, বৃষ্টি কেমন পেয়েছিল আঙুর গাছটা, সেই আঙুরের পৈত্রিক পরিচয় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমরা হয়ত বাড়িতে পরীক্ষা চালিয়েছি নিজেদের মত করে। চোখ বন্ধ করে খেলে রসগোল্লা আর ল্যাংচার পার্থক্য করা যাবে (আমাদের পাশের বাড়ির মাণিককা পারবে না অবশ্য)কিন্তু কার তৈরী রসগোল্লা? কে সি দাশ, নবীন ময়রা, নাকি পাড়ার গঙ্গা ময়রার দোকানের? ল্যাঙচা শক্তিগড়ের? সীতাভোগ বর্ধমানের – এগুলি কি খেয়ে শনাক্ত করা যায় নাকি! আপনারা ব্লাইণ্ড টেষ্ট করে থাকলে হয়ত এতদিনে প্রমাণ পেয়েই গেছেন যে পার্থক্য করা সম্ভব নয় – তাহলে ওয়াইনের বেলায়?
যেমনটা আগে বলেছি আমার এই দ্বিধাও নতুন কিছু নয় – আরো অনেকেই আগে ওয়াইনের আঁতলামো যে বেশীটাই বেসলেস সেটা নেড়েঘেঁটে দেখেছেন। খুঁজলেই রিসার্চ পেপার পাওয়া যাবে – আমিও খুঁজতে বসলুম।
এককালে আমাকে প্রায়ই ফ্রান্স যেত হত কাজে বা অকাজে। ঘটনাচক্রে যেখানে যেতাম সেটা আবার হোয়াইট ওয়াইনের স্বর্গরাজ্য বলেই পরিচিত – বুরুগ্যাণ্ডি প্রদেশ। ডিজন শহরে থেকে বন্‌ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিমি রাস্তার একটা স্ট্রেচ আছে যার দুধারে শুধুই আঙুরের ক্ষেত ও অসংখ্য ওয়াইন প্রস্তুতকারী গ্রাম। বেশীর ভাগই ফ্যামিলি বিজনেস – সেই রাস্তা দিয়ে সাইকেল নিয়ে ট্যুরে বেরুনো এক অনবদ্য অভিজ্ঞতাই বটে। তবে সেই গল্প ডিটেলেস-এ অন্য কোন খানে অন্য কোন সময়। দুই-একখান কবিতাও লিখে ফেলেছিলাম বার খেয়ে – সেই আঙুর রাজ্যে ঘোরা নিয়ে – তখন বয়স ছিল –
“ঘাম হইয়ে যাওয়া জলকণাগুলি কিছুটা শর্করা জাতীয়
অথবা আঙুরের রস মজে মিষ্টি সাদা আর লাল
তাদের লবণত্ব হারিয়ে সবুজ হতে ভালোবাসে
আমি হলুদ তাপের মাঝে জলকণা
শুষে নিই ভেণ্ডিং মেশিন থেকে
আঙুরলতা জড়িয়ে গেছে হলুদে
খালি পায়ে আঙুরবালা
তুমি কাঠের উপর ঘষে নাও ক্লান্তি
আর লেগে থাকা যৌবন”
আমি যখন নিজেই ঘুরে দেখি একটা কষ্ট পেয়ে বসে। আদি অকৃত্রিম কাদা মাখা, মোরামবিহীন, বাঙলা মিডিয়াম, ঝাপান, তুসু সম্বলিত আমার ছোটবেলা – আর আমি কবিতা লিখছি আঙুর – ওয়াইন নিয়ে! বাবা জানতে পারলে বেধরক রাগারাগি করত – কেন আমাদের রাস্তার ধারে খেজুরগাছগুলো কি দোষ করল? যেগুলো রামাশীষ গাছ দিত – শীতের ভোরে কলসি করে রস পৌঁছে দিত বাড়িতে? কি দোষ করল গরাঙ্গের পাড়ের তালগাছগুলো যেখান থেকে তাড়ি খেয়ে শীতের দিনে ক্রিকেট আর গরম-গ্রীষ্মে ফুটবল খেলতে নামতাম মনসা, পলু, ডাবা, আলমদের সাথে? খেজুর রস আর তালরস কি খুবই অচ্ছুৎ আঙুরের থেকে? মানছি তালরস খেয়ে ঘাম হলে বেজায় গন্ধ বেরোয় গা দিয়ে – সে তো ওয়াইন খেলেও জিব লাল হয় – তাই ও সব ফালতু কথা বল না – লিখেছ একটাও লাইন খেজুর তাল নিয়ে? কেবলই ভাঙিয়ে খাচ্ছ “তাল গাছ একপায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে”খেয়েছোতো ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা খেজুর রস মাটির কলসী থেকে – কেমন খেতে? ভাবতে গিয়ে পেত্যয় দিই – সত্যিই সে রস তো খারাপ ছিল না! তোমরা নিতে পার না – কারন তোমাদের আধার নেই। মহুয়া রস নিয়ে আমি কিছু বলতে চাইছি না – কারণ প্রথমত আমাদের দিকে মহুয়া হত না এবং দ্বিতীয়ত মহুয়া নিয়েও হাওড়া-কলকাতা বাসী বাঙালী বেশ যথেষ্ট পরিমাণে আঁতলেমো করে গেছে। যারা মহুয়া প্রকৃত পান করে তারা নিশ্চুপ – যারা চাখে তারা ফাটিয়ে দেয় ঢেকুর তুলে। তাবলে তুই ওয়াইন-আঙুর নিয়ে কবিতা লিখবি? গ্রামের জন্য তো হানিকারক জিনিস ছাড়া কিছুই করলি না – অন্ততঃ আমাদের দিকে ভাটিখানা আছে এটাও যদি লিখতিস, হয়ত কিছু বিজনেস পাওয়া যেত!
ওয়াইন খাওয়া আর তাড়ি খাওয়ার প্রকার এক নয়। অবশ্য ওয়াইন যে তাড়ির মত খাওয়া যাবে না এমন কথাও হলপ করে কেউ বলে নি। তবে কিনা এটিকেট বলে একটা ব্যাপার আছে – “ভজহরি মান্না” তে ভাত-পাঁঠার মাংস হাত দিয়ে সাঁটিয়ে লিমিট পুস করা গেলেও “ওঃ ক্যালকাটা”য় সেই কাঁটা চামচ!
এক ওয়াইন বিশারদ ওয়াইন গ্লাসে রেড ওয়াইন ঢালল – আলোয় গ্লাস্টা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে জানান দিল গাঢ মেহগীনি রঙ – হালকা মোচড় এবার গ্লাসটাকে ১৫ ডিগ্রিতে – তরল গ্লাসের গায়ে লহর তুলে নিল একটু – এবার তিনি শুঁকলেন – বুক ভরে বাতাসের সাথে সেই গন্ধ গেল তাঁর ভিতর – এবার তিনি বললেন – হালকা গুঁড়ো কফির ছোঁয়া, মশলা, লেদার এবং ব্ল্যাক কারেণ্ট! তারপর তিনি চুমুক দিলেন – জিহ্বার টোকায় খেলা করতে লাগল বিন্দু বিন্দু লাল জলীয় কণা মুখের ভিতর। আরও খানিকক্ষণ রোয়ান অ্যাটকিনসন এবং জিম ক্যারীর সংমিশ্রণ জাত মুখভঙ্গি করে তিনি ফ্যাইন্যালি মাল গলধগরণ করলেন। এরপর ঠক করে গ্লাস টেবিলে নামিয়ে তাঁর  ভারডিক্ট – “ভালো আঙুর – ভালো ফল – লবঙ্গ তার সাথে সুইট টফির সুগন্ধ যুক্ত – ভিণ্টেজ ওয়াইন – স্যাতোন্যাফ – ১৯৮৯”
এতো পুরো জাদুগর – নহে কি ইহা বিলকুল ধোঁকা? এতো আমাদের গ্রামের দয়াল খুড়োর বাটি চালা! সাধন এর ছেলে বাপন কিছুদিন নিরুদ্দেশ – দয়াল খুড়ো বাপনের ছেড়ে যাওয়া গামছা শুঁকে ও বাটি চেলে বলে দিল যে এখন বোম্বে পাড়ি দিয়েছে সিনেমায় নায়ক হব বলে – এতক্ষণ নাগপুর পেরুল!
মাঝে মাজে এই ওয়াইন ওয়াইন খেলা এতই অসহ্য হয়ে যায় যে এমনকি একজন ফ্রেঞ্চও সন্দেহ প্রকাশ করে ফেলে – ফ্রেডরিক ব্রোচে তেমনই একজন কগনিটিভ নিউরোসায়েন্স-এর গবেষক বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৯৮ সালে ব্রোচে আটান্ন জন ওয়াইন বিশারদকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফেলে তাঁদের মতামত জানার জন্য। প্রথমে ব্রোচে রেড ও হোয়াইট পরিবেশন করেন। বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মতামত লিপিবদ্ধে করেন – তারপর আবার অন্য রেড ও হোয়াইট ওয়াইন পরিবেশন। বিশেষজ্ঞরা এবারও মতামত লেখেন। দুই রেড ওয়াইনকে ব্রডলি এইভাবে বর্ণনা করা হয় – প্লাম্প, ডিপ, ডার্ক, ব্ল্যাক কারেণ্ট, চেরী, ফ্রুট, রাসপবেরী এবং স্পাইসি। দুই হোয়াইট ওয়াইন এই ভাবে বর্ণিত হয় – গোল্ডেন, ফ্লোরাল, পেল্‌, ড্রাই, অ্যাপ্রিকট, লেমন, হনি, স্ট্র ইত্যাদি। মোটামুটি যেমন ভাবে ভেগলি জিনিসপত্র বর্ণানা করা যায় আর কি!
তবে ওয়াইন বিশারদরা থোড়াই বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁরা এক পরীক্ষার স্বীকার – তাও কিনা আবার রেড ও হোয়াইট ওয়াইনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন কিনা! এ যেন মারাদোনাকে ফুটবল আর অমেরিকান ফুটবল সনাক্ত করতে দেবার মতন। তাঁরা ভেবেছিলেন নরম্যাল ওয়াইন চাখতে এসেছেন তাঁরা। আঙুরের টাইপ নয়, সাল নয়, কোথাকার ওয়াইন তাও নয় – স্রেফ রেড ও হোয়াইট ওয়াইনের মধ্যে পার্থক্য করতে বলা! সোজা ব্যাপার, তাই নয় কি?
এটা কিন্তু চোখ বন্ধ করে কোন টেষ্ট নয় – দ্বিতীয় সেটে যে রেড ও হোয়াইট ওয়াইন পরিবেশন করা হয়েছিল, তা আসলে একই! হোয়াইট ওয়াইনটায় খালি খাবার রঙ মিশিয়ে লাল করে ব্রোচে চালিয়েছিলেন রেড ওয়াইন বলে। আমি এবং সম্ভবত আপনিও ভাববেন যে এক ওয়াইন বিশারদ অন্ততঃ রেড/হোয়াইটের পার্থক্য করতে পারবেন! কিন্তু না, ৫৮ জনের একজনও লেখেননি যে রেড ওয়াইনটা হোয়াইট-টার মত খেতে ছিল!তাঁরা রেড ওয়াইন যেমন হয় তেমনই বর্ণনা করেছিলেন রং মেশানো লাল সাদা ওয়াইনকে!
ব্রোচে এখানেই থামেননি – পরের পরীক্ষা ছিল সাধারণ ওয়াইন ও ভিণ্টেজ ওয়াইন পার্থক্য করা নিয়ে। ব্রোচে বলেন যে তিনি সাধারণ ও ভিণ্টেজ দুই ধরণের ওয়াইন পরবেশন করবেন। প্রথমে গ্লাসে ঢালেন সাধারণ ওয়াইন – ব্রোচে নিজেও এক চুমুক দেন। সবাইকে দেখিয়ে সেই ওয়াইন মুখ থেকে ফেলেও দেন এমনভাবে যে সাধারণ ওয়াইনটি আসলেই বাজে টাইপের। বিশেষজ্ঞরা তাঁদের মতামতে লেখেন – সিম্পল, আন-ব্যালেন্সড, লাইট, ফ্লুইড এবং ভোলাটাইল।
তারপর ব্রোচে ভিণ্টেজ ওয়াইন পরিবেশন করেন। এবার ব্রোচে নিজে চুমুক দিয়ে সবাইকে দেখিয়ে অনুমদন সুচক ঘাড় নাড়েন। বিশারদেরা লেখেন – ফ্লেভারসম, স্মোকি, ফ্রেস, উডি এবং এক্সেলেণ্ট। আপনারা এতক্ষণ নিশ্চই পাঞ্চ লাইনটা বুঝতে পারছেন – ব্রোচে পরিবেশিত দুই ওয়াইনই ছিল এক – সাধারন বোর্দো ওয়াইন!
তাহলে এই পরীক্ষার ফলাফল কি দাঁড়ালো? এটাই তো পাতি উপসংহার যে ওয়াইন বিশারদেরা আসলেই অতি সিউডো আঁতেল – স্রেফ সাধারণ পার্থক্যও ধরতে পারেন না! অন্ততঃ আমার কাছে সেটাই মূল সারবত্তা!
কিন্তু না! এখানেই হিন্দী সিনেমার মত টুইষ্ট। ব্রোচে তাঁর পরীক্ষাগুলো ওয়াইন বিশারদদের গাধা প্রমাণ করার জন্য করেন নি। তিনি নিজে একজন ওয়াইন প্রেমিক এবং এক ভিনিয়ার্ডের মালিক। ব্রোচে যুক্তি খাড়া করেছেন যে তাঁর পরীক্ষা আসলে এটাই প্রমাণ করে যে পারস্পেকটিভ এক্সপেক্টশনের প্রভাব অনেকটাই দূরবর্তী। অর্থাৎ ব্রেন অনেক সময় ক্ষুদ্র পার্থক্যকারী অনুভবকে প্রসেস করে না – তার বদলে ব্রেন তার অভিজ্ঞতা তৈরী করে দৃশ্য, শব্দ, ঘ্রাণ, স্পর্শ ও স্বাদ এই সব সেন্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য দিয়ে। দূর্ভাগ্যক্রমে (বা সৌভাগ্যক্রমে) ব্রোচের রায় অনুযায়ী ব্রেন দৃশ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্যকে ২০ গুণ বেশী জোড় দেয় বাকী সেন্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের থেকে। অর্থাৎ গ্লাসে আমরা রেড ওয়াইন দেখে মস্তিষ্ককে জানাচ্ছি ওটা রেড ওয়াইন – ব্রেন এই ডাটার উপরেই বেশী জোর দিচ্ছে। তার পর জিহ্বা থেকে প্রাপ্ত তথ্য তেমন গুরুত্ব পাচ্ছে না – আমাদের পারসেপশনই রিয়েলিটি হয়ে যায়। এবং আরো আশ্চর্য্য ভাবে, ব্রোচের মতে যত অভিজ্ঞ, যত বেশীর ট্রেণড হবে সেই ওয়াইন ড্রিংকার, তার ভুল করার চান্স ততো বেশী হবে। কারণ তার ব্রেন হাইলি ট্রেনড রেড ওয়াইনকে একভাবে টেষ্ট করতে। সে তার আগেকার পারসেপশন/ধারণা থেকে বেরোতে পারে না।
তবে আমার মতে ব্রোচে একটু ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছিলেন ব্রেন-ফ্রেন এই সব ঢুকিয়ে। ৫৮ জনের সবাই যে এই ভাবে ছড়াবে, তাও খোদ ব্রোচেও বুঝতে পারেন নি। অতএব দে শালা দোষ ব্রেনকে – মাতলামোর জন্য আমরা এসো দোষ দিই তালগাছকে। ব্রোচে মালটা আপসেট হয়ে গিয়ে মনে হয় পেপারটা আর পাবলিশই করে নি!
তাহলে ব্যাপার কি দাঁড়াচ্ছে – ওয়ালমার্ট, টেসকো, সেনসবেরী, ওয়েটরোজ এই সব ডিপার্টমেণ্ট স্টোরে দৌড়ান পরের পার্টির আগে। পাতি ওয়াইন কিনে ভরে ফেলুন কিছু ফ্যান্সি বোতলে – কেউ টেরটি পাইবে না। ট্রেই নিয়ে দেখতেই পারেন! তবে কিনা আপনি কি সিওর যে এই একই ট্রিকস আপনার উপরে অন্য কেউ খাটিয়ে ফেলে নি ইতিমধ্যে!
ব্রোচে তাই পয়েণ্ট আউট করেছেন যে বেশীরভাগ ওয়াইন ফ্রড ধরা পরে লেবেলিং গোণ্ডগোল থেকে – কাষ্টমারের স্বাদ বিষয়ক অভিযোগ থেকে নয়। ভাবুন তা হলে – গত সপ্তাহে কেনা ৫০ ডলারের আপনার ওয়াইনের বোতলটা কোন দলে?
অন্তিমে বলি চারিদিকে গুনী পাবলিকের ছড়াছড়ি – আমি না ওয়াইন এক্সপার্ট, না নিউরোসাইন্টিস্ট। এঁরা আরো ভালো বলতে পারবেন কেসটা আদপে কি। আমি শুধু কিছু না জেনেও জানি যে ওয়াইন নিয়ে বেশীর ভাগটাই আঁতলামো। ডাক্তারে বলছে যে রোজ হাফ গ্লাস (বাবার বিয়েতে দানে পাওয়া কাঁসার গ্লাস নয়!) করে ওয়াইন খান – হার্ট ভালো হবে নাকি! কেউ আবার একধাপ এগিয়ে বলছে যে রক্ত নাকি এতে পিউরিফাই হয়! আপনি রে মিটের সাথে রেড খান, চিকেনের সাথে হোয়াইট। প্রকৃত মাতাল পার্টিতে তাড়াতাড়ি এই ওয়াইন আঁতলামো শেষ করে আরো গভরী ঢুকে যায়। লুঙ্গি পরে ওয়াইন মানায় না, কাপড়, শাড়ী পড়েও না – পাজামা, চুড়িদারেও না। ওয়াইনের সাথে আঁতলামো করতে হলে ওয়েষ্টার্ণ ড্রেস মারুণ। আর তা না হলে আমার মতন ভাবতে শিখুন – আমাদের দ্যাশে এর থেকেও ভালো অলটারনেটিভ আছে। খেজুর আর তাল রস নিয়ে কবিতা লেখা যায় না - এই যা!
কৃতজ্ঞতাঃ এফ ব্রোচে (২০০১), “কেমিক্যাল অবজেক্ট রিপ্রেজেনটেশন ইন দি ফিল্ড অব কনশাননেস”
অ্যালেক্স বয়সি, “এলিফেন্টস অন অ্যাসিড অ্যান্ড আদার ব্রীজায়ার এক্সপেরিমেন্ট,” বস্কট্রি, ২০০৭|

No comments:

Post a Comment