MOBILE VERSION

popular-recent

Recent Posts
     
 
TranslationTranslation PoetryPoetry ProseProse CinemaCinema
Serialধারাবাহিক
Weekly
Weekly
Visual-art
Art
ReviewReview
Web IssueWeb Issue InterviewInterview Little-MagazineLil Mag DiaryDiary
 
     

recent post

txt-bg




top

top












txt

Pain

আড্ডা, সাবেকী ভাষায় Interview
আমার জীবন থেকে উঠে আসা সুর
এখনো অ্যানাউন্সমেন্ট হয় নাই, আসবে কি না জানা নাই
ব্যথার পূজা হয়নি সমাপন

Dolchhut Printed 4th Edition - poetry


কবিতা

বিলা - রামকিশোর ভট্টাচার্য্য

তোমাকে  রাখিনি  কোনো  বিতর্ক-সভায়ে । তীব্র  ব্যথায়
কেবল  দিয়েছি এক নরম নির্জন দুপুর
আর সেই নদী । জোছনা  পার্বনে
ওপারে বিষাদ হাত  নাড়ালে
এপারে  সবুজ  পাতারদল হেসে ওঠে ।

সম্পর্ক  ভেঙ্গে  গেলে  কত  প্রস্তাবের  মেলা ,
অন্তহীন  মুক্ত  কুড়োনো  বেনাবন  থেকে।
বৃষ্টিতে  ভিজে  জয়ে  রবিঠাকুরের  গান। পাতা-ঘুঙুরের  শব্দে
সব  ধুখই  যে  কিভাবে  বিলাস  হয়ে  যায়...


জন্মদাগ-সৌগত চক্রবর্তী

) আর নাবিকেরা দুভাবে দ্যাখে তটোরেখা
ঘ্রাণ নেই সমুদ্র বাতাসের
প্রত্যেক কবিতাজন্মের একটা গন্ধ থাকে
বন্দরের মত
শ্যাওলা আর ভুলে যাওয়া নোঙ্গরের...

ব্যাকগ্রাউন্ড

একটা সিনেমা দেখে বেরোচ্ছিলাম হল থেকে,
সামনে একদল তরুনী,দে অল স্মেল্ট গুড
অথচ এই গন্ধ কোন ঘনিষ্ঠতার কথা বলেনা

) ভূতপূর্ব  ভালবাসার 
কিছু  সমার্থক  শব্দ  খুঁজি  
বিজ্ঞান  অন্ধত্বের  জটিল  প্রমান  আর
দার্শনিক  ভাবনার   জন্যে  চেয়ে  বসেন
অনন্তকাল ,
আমি  বাঁদুরের  মত  প্রেমশব্দগুলো
ছুঁড়ে    দিই  তোমার  দেয়ালে
ফিরলে  বুঝি
এখনো  "না" বলার  ধৈর্য্য  হারাওনি।


একক উড়ান - অচেনা পথিক

জানলার গরাদে নেমে এলে গোধূলিপালক
অন্তরিন ডানায় উড়ান পাও তুমি ,
আরামচেয়ারে শরীর বিছিয়ে
বইয়ের পুরোনো মলাটে আমি
সোহাগের চিঠি খুঁজি অনন্ত পিওন ।

তারপর, চুপকথা শিখে নিলে পালকের ওম
আমাদের কথাঘুমে নেমে আসে রাত ,
তুমি ফিরে পাও রোজকার
এই ঘর-বন্দর ,
আমি ছায়াপথে উড়ে যাই নক্ষত্রবালক ।

দু’জনেরই আছে  উড়ানের সূচি
শুধু সমকালীন হলে
সংঘাতের ভয় !!


বাসাবদল - অনুপম মুখোপাধ্যায়

আমি হ্যালোলি আর
বাড়ির মধ্যে বাসা-বদল হয়

ফোন কেটে দেয় একটা অচেনা লোক, যেন
আজগুবি একটা ঘর ফাঁকা হয়ে গেলো

একটা ফার্ণিচার আর একটা ফার্ণিচারকে, নাজেহাল
ধরে রাখতে পারছে না


শ্রেষ্ঠা-৩ - সুকান্ত ভৌমিক

মেঘের পিক্সেল ফেটে জল রঙ,
হৃদয়পুর ড্রেনস্থ করার আগে...
ঝুল বারান্দা জুড়ে সুখী ওড়না।
রাতজাগা পাখিদের স্বাধীনতা এক,
পথ চলার প্রত্যয়
আরো একটু বেশী আশকারা পাক।
বাদ বাকি বলে ফেলার মাঝে
না বলা অভিব্যক্তি।
জমে জমে পাথর প্রমাণ...


যদি এমন হত... - অনির্বাণ দত্ত

কোনদিন চোখ রাখতে পারিনি
পাহাড়ী খাদ উপচানো অতলান্ত রাত্রির চোখে ।
কিম্বা, পাথর উড়ানো সীমাহীন ছুটিগর্ভ সেইসব রোদ্দুরে ।

আরো কতো লবনাক্ত গোধূলী জমালে
একটা সমুদ্র পাওয়া যাবে ?
কতোগুলো ধর্ষিত সকাল পেরোলে
একটা কবিতা -
অথবা , একটা কবিতা পেরিয়ে
কতোগুলো ধর্ষিত সকাল ?

একছুট্ ঐ ভাঙ্গা শেডটার নীচে
আমায় সেঁধিয়ে যেতে দেখে ,
হেসে উঠেছিলো সশব্দ , যে বৃষ্টিগুলো কাল ,
ওরা যদি কোনো নৈশ নক্ষত্র খুঁড়ে
সমান্তরাল শ্বাস খুঁজে দিতে পারে ,
(তাহলে,)আমিও এক-ব্যালকনি ভেজা বিকেল দিয়ে
একটা গোটা দিন সাজিয়ে নিতে পারি ।



ফিরতি ইন্টারসিটি- বিভা বসু

দ্বিধায় পুড়ে যাবে তুমি দীর্ঘতর ভ্রমণে, স্নিগ্ধ পরকীয়ায়
অথবা প্রাপ্তিহীন রঙ্গহীন মনস্তাপে সংবিদ্ধ হব আমি, অযথার্থ
য্যানো ভ্রান্তিবিলাসী এক পোড়োবাড়ি
ধীরে ধীরে আরো বিষণ্ণ হোয়ে উঠেছে যার অনাধীত জানালাগুলিও।
ধোঁয়াশায় ভরে উঠেছে দিকচক্রবাল
ঝাপসা, ছবির মত আর্দ্র হয়ে উঠেছে সবুজ, সীমাহীন প্রান্তর
এরই মধ্যে জানালার শিকগুলি ধোরে
সংশয়ে পুড়ে যাবে তুমি
অ্যাকঝলক সুবেশ পরকীয়াসমেত-


অসুখ - কৌশিক সেন

মৃত মানুষের মিছিলে প্রতিদিন ক্ষয়ে যেতে পারা অভ্যাসলব্ধ
কাগমারাদের দলে তাই লোক খুঁজে পাওয়া ভার
অজানা আশঙ্কায় পিঠ বেয়ে শিরদাঁড়া ঘাম নেমে আসে বেশ
ঘুলঘুলি-চড়ুইবাসা শুন্যস্থান পূরন হলে...
এবার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সুখ।

অসুখ ২

চানঘরে কল খোলার আওয়াজ পাই
বিছানায় শুয়ে শুয়ে এই শব্দ অনেকদিনের চেনা
এইবারে বেরিয়ে আসবে জয়ি...আয়নার সামনে
ভেজা চুল তোয়ালে দিয়ে মুছে যাবে অনেকক্ষণ
আমি জানি...
ওর পিঠ বেয়ে জল...জল কোমরে, কাঁধে
আমার পরিচিত ছবি।
জয়ির বুকের ওঠানামা, নিশ্বাসের কাঁপন
আমাকে ওর বেশ্যা করে রেখেছে।
সুজয় বলে একটা আজব জিনিস...
দেজা ভু হলে বড় মজা লাগে দেখবি
কিন্তু বেশি হওয়া নাকি পাগলের লক্ষণ
আমি জানি না...
আমার ভালো লাগে না জয়ি।
এই কাঁচের টেবিল, কাঁচের গ্লাস
কাঁচের মৃদু আলো এসে পড়ে কাঁচে
আমি গ্লাসটা তুলে নিই- চিয়ার্স।
এমনটাই হতে থাকবে...আমি জানি
আমার খোলস ছাড়া হবে না কোনদিন


অন্বেষণ – রমিত দে

দুটো চোখ ছাড়া সব ভুল;
সব বর্ষা আসলে সমুদ্রের দিকে ঝুঁকে আছে
চুনকালি মেখে-ভেতরে ভেতরে-চুঁইয়ে চুঁইয়ে;
আর কিছুদুর যাওয়ার পরই
আমার হাইবারনেশন এ পৃথিবী নিয়ে যারা বসে
তারা বেছে নিচ্ছে কুড়িয়ে পাওয়া জিরাফের মোটিভগুলো।
আমি দেখছি।কি আশ্চর্য!
যেন আমার চিঠির জবাব চাই
কিন্তু চিঠি আমি লিখেছিলাম কবে?
সেই অমুক তারিখে সারারাত ঘুমোইনি শুধু
শুধু অন্ধকার করে এলে দৌড়েছি
একটা লাল ফুলের সেটেলমেন্টে।
সেটেলমেন্ট জিনিসটা অনেকটা মহল্লার তুতু বেড়ালটার মত
ফোড়নগন্ধে কাঁধে হাত রাখে রোব্বারের মাছেদের,
আর খুব ভোরে এসে,মাথা ভর্তি কাঁটা নিয়ে
বলাবলি করে তাদের চাবি হারানোর গল্প।
এখন সন্ধ্যে পর্যন্ত মাস্তুলে দাঁড়িয়ে উড়িয়ে দিই ফ্রক পড়া সমুদ্র।
এরপর আরও গভীর-গভীর এবং...
গভীরকে আমি সমুদ্র বলে ডাকি।
তখন কথাটা সমুদ্র হলেও, কিছুদুর যাবার পরই
দুটো চোখ ছাড়া আসলে কোথাও যাবার নেই।
শুধু দু-একটা গেরস্থ বিচ্ছেদ ঘুমোতে যাওয়ার আগে
ম্যানহোলে ছড়িয়ে দেয় সাড়ে পাঁচটার যন্ত্রণা...


মাঝির স্ত্রীকে- জুবিন ঘোষ

নৌকা আমার গৃহস্থালি শিহরিত
ঘোলা স্রোতে পাক খাওয়া তুই জানিস নাবিক ?
খাবি খাওয়ার তীব্রতা সেই মাছের মতন
দৃশ্যচ্যুত উঁচুনিচু কাঠের ফালি
নৌকা জুড়ে ভাঙাচোরা লুপ্ত নগর
পাটাতনের বীর্যপাতের গন্ধঘামে, হ্যাল খেয়েছি
গাঁজলা আমার ব্রহ্মতালু জ্বালিয়ে ভুলে, ফেরিঘাটে
নৌকা আবার আসবি নাকি সপ্তগ্রামে ?
আমার বাড়ি, আঁশের বাড়ি, মাঝির স্ত্রীকে
হতচ্ছারি, ঢোঁড়া সাপে, এঁদো-পুকুর, অসুখ-বিসুখ
এসব যদি পালটে যাওয়াই শ্রেষ্ঠ হতো
পালটে দিলাম গভীর রাত্র নষ্ট দুপুর ?
আমার ঘরে নৌকা আবার আসবি নাকি ?
আসবি নাকি ল্যাজের ডগায় জিওল মাছের পাখনা ভিজে
অপঘাতে মৃত্যু লেখা রয়েছে হাতে, ডুবিয়ে জলে
শিশ্ন আমার হারিয়ে গ্যাছে পাঁকের নিচে...


সুমনা ও শীতের ফড়িঙ- সুবীর বোস

কুয়াশামন্ডিত এক বিনিয়োগে দীর্ঘস্থায়ী জমে আছে
সুমনার স্বেচ্ছা নির্বাসন
খানে শীতের ভো ঢং ঢং ঘড়ির দেয়ালে মিশে গেলে
নুড়িপাথরের ভিড়ে নড়ে ওঠে ওম
সব জড়িয়ে গায়ে সুমনা নির্লিপ্ত হেঁটে যায় কলঘরে -
তার ডালপালা ভিজে যায় কুয়াশায়

সুমনা কি কুয়াশাই ভালোবাসে তবে?
নাকি চাঁদ ঝরে গেছে তাই কুয়াশাই ভালো আর
বরফে সে খুঁজে ফেরে প্রিয় কিছু শীতের ফড়িঙ!


 সন্তান - সুতপা ভট্টাচার্য্য বারুই

আশ্চর্য্য এক রাত!
নক্ষত্রের মত ফুটে ওঠে আমার আঁচলে!
আমি সন্তর্পণে ঢেকে রাখি চাঁদ
পাছে রাতচরা পাখিদের ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যায়!
পাছে শিকারী পেঁচার সুতীব্র চাহনি
দেখে ফেলে তাকে!তাই আড়াল রাখি ।
আশ্চর্য্য এ হৃদয়!
ছায়াপথ এঁকে চলে আমার ভেতর ...
চাঁদ তুই আলো দেচাঁদ তোর কলঙ্ক দিস আমাকে
চাঁদ তুই ছুঁয়ে থাক পাহাড়ের চূড়া ...
তবু পাছে নজর লাগে
আঁচলে বুনেছি তাই ঘন কুয়াশা ।


দুই পৃথিবী – অভিজ্ঞান চক্রবর্তী

এ পৃথিবীর সব আলো নিভে গেলে-
আর,তোমার অঞ্চল থেকে সব জল,যদি
শহরেরে বিক্ষিপ্ত কুয়াশায় মিশে যায়,
এ শহরে শীতকালীন রাত নামে।

রাতের হাওয়ারা আমার নাম ধরে ডাকলে,
প্রতিরাতে আমার পুনর্জন্ম হয়।
আমি অনন্ত ছায়ার পরে আরও এক ছায়া দেখি;
এ শরীরের ভেতর যেন অন্য গলার স্বর,
পৃথিবী ক্রমে ঝিমিয়ে যায় তোমার অন্ধকারে।

পার্থিব সব মায়া ত্যাগ করে,চলে গেল যারা,
আর যারা চলে যাবে আরও এক সহস্রাব্দ পর,
তারা প্রতিরাতে মিশে যায় অজ্ঞাতে;
বালির আঁচড়ে লীখে ড়াখা নাম-
চুড়ান্ত অবহেলায় উড়ে যায় সমুদ্রস্নানে।
অনন্ত নীল আত্মীয়রা হয়তো বা-
পায় খুঁজে তার পরম্পরা,
হঠাৎ কোনো রাতে উষ্ণ-হাওয়া ছড়িয়ে দেয় কেউ।

তবু;
কত ভালবাসা রয়ে গেল বাকী-
দুই পৃথিবী তো একই আকাশ চায়।


হাসি আষিক

হাসবে না । হাসি পেলেও, একদম হাসবে না।
তোমার এই হাসিমুখ আমার ভীষণভাবে চেনা।
এভাবে হাসলে আমি আরেকবার প্রেমে পড়তে পারি -
সন্ধ্যে হবে, রাত্রি হবে, সময় সকাল হয়ে ফিরে যাবে, ফিরব না বাড়ি।
হাসবে না। হাসি পেলেও, একদম হাসবে না।
তোমার এই হাসিমুখ দেখলে কান্না পাবে
কেন না আমি জেনে যাব আগেকার মত তাতে
                                      আর আমার ছায়া পড়ছে না।


আজ একটু কাব্যি লেখা যাক - গঙ্গোত্রী

আজ একটু কাব্যি লেখা যাক,
শুক্রবারের গুচ্ছ কাজের ফাঁক,
আজ একটু তাকিয়ে দেখা যাক..
তোমার মুখের অভিমানের পানে..

আজকে আমায় তোমায় সবাই জানে,
আজকে অধর নিঠুর হযে চুপ,
আজকে খবর বলছি কানে কানে,
তার মাঝে সব গুলিয়ে গেল ফের..

তার মাঝে সব কথার ওজন ধের,
তার মাঝেতেই হাত ধরেছি তোর..
টেনেছি ফের সেই পুড়ানোর জের,
ঘুম পুরালো বলছে না তোর চোখ,

বলছে না সে, তুই যা বলিস মুখে,
সেই পুরানই আজকে নতুন কি?
হাসছি আমি হাসছি নিজের সুখে,
কে রেখেছে খবর আমাদের..?

আমরা বাঁচি ম্যালেরিয়ার হাওয়ায়,
আমরা খেলাম নোংরা ডেঙ্গু জল,
খিদে ছিল অনেকটা না পাওয়ায়,
অনেক খানি পেয়েও গেছি বল..?!

একবার-ইন্দ্রানী মুখার্জী

কথা হও শুধু একবার
একবার চেয়ে দেখো
জাগতিক সবকিছু..সব কলতান
সবটুকু ধুয়ে গেছে প্রজাপতি স্রোতে

আজ একবার
পারো যদি নদী হতে..
অন্তঃসলিলা নয়
বৃষ্টিমুখর সেই কবিতার মতো
আজ শুধু
অকারনে ছুঁয়ে যাও
কনে দেখা গোধূলির
ম্লান মোহনায়

সেইসব রাত হও
যারা সব নির্ঘুম
কত কথা অগোপন
বলে গেছে দ্বিধাহীন
ঘুমের পরশ হয়ে..

নাহয় কবিতা হলে
শব্দের জ্যোৎস্নার
মৃদু আকাঙ্খার সুরে

সেইসব মুছে যাওয়া
জলরঙ শব্দের সাজে,
কথা হও
শুধু একবার..

নীবিড় গহন হও
সাঁঝবাতি চোখের তারায়..

ভোরাই আজানে এসো
মাঘের শিশির হয়ে
আর এসো
শারদীয় মেঘেদের
শিউলি-ভেলায়
চেয়ে দেখো একবার
হোক না সে রক্তিম বিকেলের
পড়ন্ত রোদ্দুর..

দু-হাত ছড়িয়ে দিয়ে আকাশের নীলে
ঝরে যাক যত মৃত কান্নারা আছে..
অবেলায় চোখ মেলা কুঁড়িদের মতো,
মাটির শব্দেরা আজ বৃষ্টি চেনাক..


মেট্রো - গৌরব

আমি তখন সামনের কামরায়।
আমার তখন বয়স বছর কুড়ি।
ক্যাম্পোসিয়াঘুমের দোলাচলে 
আমি তখন সকাল বিকাল পুড়ি।

আমার মা টিপ পরতে পারত -
আমার মায়ের আঁচল রান্নাঘরে।
আগুন-খেলায় হলুদ কিংবা সাদা
বাদামতেলের আশ্বাস-ঘ্রাণ ঝরে।

সেদিন হঠাৎ দুলছি আমার বাবা
ডাক দিল ঐ আগের কেবিন থেকে।
উল্টে পালটে দেখল নেড়ে চেড়ে - 
সবুজ শাঁসটা যাচ্ছে নাকি পেকে।

এই শহরে অনেক মেয়েই ঘোরে,
কাউকে আমি কোলের পাশে বসাই।
দূরত্বটা ভীষণ নিরাপদে
সামলে নিয়ে উদ্দাম চড় কষাই।

ওদের তাতে ভীষণ ভাল লাগে।
ভাল লাগে বাবার এবং মা-রও।
আমার ভাল লাগে ঘুমের শিশি,
আয়না নিয়ে চেঁচাই চুমুক মারো!

টিকিট আমার কাটা অনেকদিন-ই,
অনেকদিনের অভ্যাস এই দোলন।
সময় মত আসতে পারে স্টেশন,
আসতে পারে কমা, সেমিকোলন;

আসতে পারে কমা, সেমিকোলন;
আসতে পারে কমা, সেমিকোলন;


নাগাল-ভয় - নিশান

মাঝে মাঝে ভাবতে ইচ্ছে করে
তুমি দূরে আছ... নেই কাছে ...
চিঠিপত্র চালাচালি হয় ...

মাঝে মধ্যে মেঘে মেঘে ...
মেঘদূত ইথারের মাঝে ...
উড়ে আসা স্মৃতি ... পরিচয় ...

এটাইতো ভালো লাগা ...
না ছুঁয়ে ছোঁয়াদের মত ...
উড়ে এস চিঠি খাম ..
উড়ে এস সেদিনের মত ...


জলপুরুষ : ২  - সুব্রত সান্যাল
মনখারাপের গান 

রাত্রিলীন দিন গুনেই থাকছি খুশ -
আয় তোকেই ফের জাগাই জলপুরুষ...
সাতরঙ্গীন স্বপ্নদের দৃষ্টিতে
এই সময় দিচ্ছে তার বিষ-ছিটে
রাতবদল হচ্ছে সব প্রশ্নদের
দিন-বাতির চারপাশেও কৃষ্ণ-ঘের
খুব নরম সৃষ্টিশীল বন্দুকে
বন্ধুতেই হানছে দেখ বন্ধুকে !

কোন মলিন রংবিহীন অংশকে
ডাকছে এক খর-নখর দংশকে ;
ক্ষমতার চৌমাথার শাল-সেগুন
ব্যস্ত বীর সব স্থবির খাচ্ছে ঘুন -
খুব কঠিন বাস্তবের অঙ্ক সে
তার ঠেলায় স্বপ্নদের রং খসে
ঠেকছে এক জ্বরকালীন কঙ্কালে -
জাগবে কেউ কল-কামান ধমকালে !

গাইছে সব ঠিক কথাই ভুল স্বরে
মিশছে তার তুচ্ছতাও ঈশ্বরে...
জলপুরুষ আজকে তোর ভুল সময়
বৃষ্টিঋণ আজ এমন পাখনাময়
গন্ধকেও রাখলে আজ মনখারাপ
কোন কুহক জানবে আর দৈব পাপ
জলপুরুষ, আজকে তাই বলছি ফের -
নীল আগুন নৌকা দেয় অক্ষরের...

এর পরেও রয় বাকি শেষ পাতা
সেই পাতায় লিখবো স্রেফ দৈনতা -
সব ক্ষিধের ঝঙ্কারেই রাত্রিলীন
জ্বলছে এক দৃষ্টিহীন মৌন দিন ।।


শুরু আর এক পথ চলা - অনামিকা ভট্টাচার্য্য

জন্মের আগেই নির্ধারিত হয়েছিল তোর নাম
চারিদিকে রক্তের প্রবল স্রোত
পাঁজরের শূন্য স্হান ভরাট করে
পতিত রক্তের মিশ্রন।

সেই শুরু-
মার্তৃ গর্ভে ভরাট সুর তুলে
গেয়ে ওঠা পতনের
সর্ব শেষ গান।

জীবনের রূপায়িত ক্ষণ।

নব পিতার ক্রোড়ে-
নবজাতক শিশু সম্রাট।
শুরু আর এক পথ চলা-


কপাট খোলা রেখে কবি – সায়ন্তন গোস্বামী

কপাট খোলা রেখে কবি
চলে গেছে আরো দূরে, সেথায়ে
গাছের পাতা শরীরে পড়ে
হয় বৃক্ষ, স্থায়ী

জৈব-অজৈব দীক্ষা অবহেলায়ে
সরিয়ে, প্রাগৈতিহাসিক
স্তন্যপায়ী জীবের ন্যায়ে
সন্তর্পণে নামে
শীতল জলাধারে;

কোমর ডুব জলে
ন্যুব্জ হয় দিন, ডাহুকের
ডাকে কবি ফিরে
পায়ে সম্বিৎ

কাঁদে


বেলা শেষে-শ্রদ্ধা পত্রনবীশ

মন শরীরে বয়েস বাড়ে। হাতপাখাটা
ঘুরতে ঘুরতে থমকে দাঁড়ায় হঠাৎ করে
তরঙ্গ সব আলতা দুধে মিলিয়ে যায়
অজস্র দাগ কপাল জুড়ে প্রহর গোনে।
হেই সামালো- হল্লা কানে বাজতে থাকে
ক্লান্তি নামে দু চোখ জুড়ে - ঘুম কেন পায়!
ফড়িং গুলো সবুজ ঘাসে আর নাচে না
সময় শুধু সূর্য ডোবার ধ্রুপদ শোনে...
যত্ন করে চালকুমড়োর বীজ পুঁতেছি-
আর কটা দিন সবুর করো- সঙ্গে যাবো।
ঘরের চালে ফলন দেখার সাধ রয়েছে
শেষ বিকেলের রোদ্টুকুনি জমছে মনে..
হারিয়ে যাওয়া নাকছাবিটা খুঁজতে যাবো
রোদ পড়ে যাক- শান্ত পায়ে ভেলায় ভেসে
ঝড় ঝাপটে টুকরো কিছু ইচ্ছে ডানা
থাকবে শুয়ে সন্ধে হলে হলুদ বনে।।


সুবর্নরেখা-অবিন সেন

এত বালি বুকে জমে গেলে,
ভালোবাসারও পথ খুঁজতে হয়;
জানি কষ্ট হচ্ছে

একটি অচেনা চিল মাঝে মাঝে ছোঁ মেরে
এক একটি রূপকথা চুরি করে নিয়ে যায়
যেন শীতের বিকেলে
বুড়ি পৃথিবীর কাছে হাত পেতে দাঁড়ায়
ন্যাড়া একটি গাছ,
তার চাওয়ার বলতে ওড়ার মতো মূদ্রায় এক আকাশ শূন্যতা!

তবু, পাথরের বুক নিঙড়ে যখন
জলের ধারা নেমে আসে
যখন সকালের রৌদ্দুর বালির চরে
ছড়িয়ে রাখে অজস্র সোনার কনা
তখন নিঃস্ব মানুষও হাত বাড়িয়ে কাছে আসে
বুকের বালি এক নিমেষে সরিয়ে
বিষন্ন মনও ভেসে যায় সে জলের ধারায়


ক্যান্সার - অর্নভ

বুকের গভিরে দ্যাখো অগ্নি ধরেছি কত
সাজো-সাজো শুকনো চোখের জলে জোকার সময়

ক্ল্যাপ্‌ ... ক্ল্যাপ্‌ ... ... ...

সুধু আমার সকাল জানুক আর পাঁচটা দিনের ক্ষত ;

শহরে নেমেছে ভিনগ্রহী উষ্ণতা
তাকে ওষ্ঠে করে ঘুরে বেড়ানোই ক্যান্সার...

শেষটুকু শুনে যাও হে অগ্নিকাতর-
শহরও রেখেছে আজ নষ্ট আদর !

আয়েনা রাখেনি চোখে হেলায়ে স্বপন
নিঃশ্বাসে ভেঙে পড়ে ছায়ার কপট...
আমাদের সবটুকু নিংড়ে 'নিয়ন'
ডাকনামে ফেলে রাখে সস্তা সমন...

ওই দিকে যেও না তো, বারণ শোনো...
যে টুকু প্রীয় আছে... সামলে রেখো,

ইতিহাস ঘেঁটে দেখো আমি প্রাচীনের
অগরুর ধূপ লেগে মাটি খুড়লেই,
পাঁজরে এখনো রোধ ঘিরেছে সময়...
ধুকপুক... ধুকপুক...
অবশ আকাশ... ...

ওখানেই পুরো নীল...
শ্রেষ্ঠ কামড় !


এপিক – অর্জুন

স্বপ্ন সায়রের আদিম রিপু ছড়িয়ে পড়েছিল
ভ্রুণ বিস্ফোরণের পর।
ঘুম ভাঙে জীবাশ্মদের,
খুঁজে পায় অরফিউস
আবার তার পুরোনো বাঁশি।


নিয়নের ছায়াপথ -সুচেতা রায়

মনে পড়ে, বাড়ির পুবকোণের জানলার
পাশের নারকেল গাছ-বিছানায়
চাঁদের আলোর নিরুত্তর ছক?

এইসব দেখিসনি কোনদিন-রাতে তোর
চোখ ছুঁয়ে দিত নিয়ন আলো।তারপর
মাঝ রাতে চাঁদ আর নিয়নের নিস্তব্ধ
আলিঙ্গন।গাঢ় অন্ধকার কল্পলোকের ঘর।।

চাঁদের আলো দিয়ে,আমার কবিতা
লিখিস।আমি নিয়ন বাতিতে তোর।।
মেঘ ছুঁয়ে যায় দিঘির আকাশ জুড়ে,
ভাল-খারাপের হিসাবী অবকাশে।।

বন্দিনী পরিযায়ীর বিষাদ পাখার
ফাঁকে,ভোরাই মৃত্যু নামে,তোর আমার
মিলিত সূচনাতে।।ভিন্ন ছদ্মবেশী-চাঁদ,
শৈশব,আমার-নিয়নের,ছিন্ন ছায়াপথে।।



এডিটর – কিশলয় ঠাকুর

নিজের ছায়াতে দেখেছি সেদিন নিজেকে
আয়নাও পারেনি দিতে তেমন স্বচ্ছতা
তারপর কাঁচি হাতে ছুটেছি
ছায়ার পিছনে,
যাকে পেয়েছি সামনে
তাকেই বলেছি পাড়িয়ে ধরতে ছায়া।
তারপর ভোর হয়
ছায়া বাড়ে, ছায়া কমে ফের
ভাবি সুর্যিই একা একা
হাতে শুধু কাঁচি আর আঠা নিয়ে ঘোরে।


ক্যাফেইন  - অংশুমান
ঝড়ের ঘূর্ণিতে ঘুরপাক খেতে খেতে
মুখ থুবড়ে ফুটপাথে এসে পড়লো
                        কাকটা।
ঠিক তোমার সাথে কফি কাপে
ডুবে ডুবে জল খাওয়ার মত করে
পড়ে রইলো, নড়লো না আর।
যেমন চকলেট দেওয়া কফি আর
ব্ল্যাক কফির মধ্যে ঝগড়া হয়না
কোনোদিন। তেমনি
মৃত্যুর সাথে বৃষ্টির মিশে,
বৃষ্টির সাথে কফি মিশে, ফুটপাথের উপর
ছড়িয়ে ছড়িয়ে হারিয়ে গেল নির্বিকার সময়।

দিনরাত কফির গন্ধ হেঁটে চলে
সমস্ত ধুলো বাতাস থেকে জুতোয়।
কবিতার খাতায় খাতায় কফির ছাপ
লেগে থাকে, তোমার আঙটিতে আমার
আঙুল কেটে যাওয়ার মতো,
অথবা যেমন আমার চশমায়
তোমার নাকের তেল।
বিছানা চট্‌চট্‌ করে ওঠে স্বপ্নে তোমার
হাত থেকে কফি পড়ে গেলে। আমার
কফি পরে গেলে দাগ থাকে শুধুই,
তার কোনো স্বাদ নেই
তোমার কানের নীচের কোনো অংশের সাথে
বোধহয় মিল থাকে মাত্র।

ব্যালকনিতে অপেক্ষায় থাকা কফিতে
যখন একফোঁটা বৃষ্টি এসে পড়ে,
টুপ্‌ শব্দ করে হারিয়ে যায়।
আর চুপ করে হারিয়ে যায় তোমার ঠোঁট।
পড়ে থাকে কিছু মেকানিক্যাল অনুভুতি,
যারা ধোঁয়ার মত ওপরে বয়ে যায়; নামে না।
কফিরা শেষ হয়ে গেলে ধোঁয়া ওঠাও শেষ হয়।
গলার পাশ দিয়ে চিবুকে, চুলের
লেপ্টে থাকার মত ক্লান্ত তলানি
পড়ে থাকে। খুব উদাস লাগে তখন।



বিতস্তা ঘোষালের  দু’টি কবিতা 

নিঃশ্বাসের ভাষার মত শব্দেরও ভাষা থাকে
খুঁজে নিতে হয় তার বাচনভঙ্গি
সম্পর্কের এমন কোন ভাষা নেই
সাদা কাগজে তুলির টান রঙ ধরায় মাত্র
বাকি সব      
মন জুড়ে যে সাপ ঘুমিয়ে
তার
 নাম দিয়েছি সম্পর্ক
নিঃশব্দে জড়িয়ে ধরেছে আমার
 তোমার জিভ
এবার
 বন্ধ শ্বাস, ভাষা ছাড়া


তোমার
 সাথে কথা বলিনি 
কতক্ষন কতদিন কতমাস
প্রতিটি তারা খুঁজছে তোমায়
 
তোমার
 সীমারেখা ধুইয়ে দিচ্ছে বৃষ্টি জল 
খোয়া
 যাচ্ছে আমার আমাদের নিজস্ব জরিপ 
শুধু ম্লান একখানা কাপড়
 ঝুলছে
সব
 বেড়া সব কাঁটাতার ভেদ করে 
আর
 রুপোলি সুতোর ওপর ভর করে ভেসে যাচ্ছে 
সব
 রাগ অভিমান ভালবাসা 


পৃথ্বীরাজ চৌধুরী-র দুটি কবিতা

SC/ST বিয়ে

সেজে-গুজে আলো বয়ে গেল
শুকতারা নদী দিয়ে

আজ ছায়াপথ গাঙ-গুলি
আর সৌর মন্ডলের বিয়ে...

বিষ্ণু দে ও অরণ্যদেব

বিষ্ণ দে,
তুফান আসছে
ঘোড়সওয়ার পিঠে
উনি আসলে অরণ্যদেব
ওর উচ্ছেদ গেছে ভিটে।

ওরা গাছগ্রাম গুলো পুড়িয়ে দিল
কেউ করল না প্রতিবাদ
শুধু হাত পুড়িয়ে কবি বাঁচালেন
ক’টা প্রাচীন অরণ্য প্রবাদ


সৌরভ ভট্টাচার্য্য-র দুটি কবিতা

অপব্যয়

মধুর স্রোতের মত মসৃণ
আরো কিছু রাত
  
অপব্যয় করে ফেলি আমি
জ্যোৎস্না নদীর মত
       
মৃগনাভি ছড়ানো-ছেটানো
ঘামে ভিজে শস্যক্ষেত্র
যেন এক ম্লান প্রসবিনী
পাতার ঝরার স্বর সেই রাত্রে
       
স্বাতীও জানেনি
সেই রাতে মোম-নেভা অভিমানী ঘ্রাণে
আমার শরীর ভেজা
বৃষ্টিঘুমের ছায়া সেই রাত্রে
   
আমার নিলয়ে
শব্দও অপরাধী
তাই আজ শুধু অপব্যায়
কলম ঘুমন্ত শিশু
শাদা খাতা আড়মোড়া ভাঙে
আমিও তো চুপিচুপি ফিরে যাই
          
জ্যোৎস্নাকলমে...

স্বাবলম্বী

বাগানের সব ফুল কিছুটা বিষণ্ণ হয়ে থাকে
বনজ ফুলের মত এরা নয় সহজ স্বাধীন
মানুষের জল দেওয়া, পরিচর্যা কুণ্ঠিত করে
এদের শরীর রঙ সব য্যানো উদ্ভিদের নয়।
উলের বলের মত সূর্য্যকে ‘গোলা’ করে ছুঁড়ে
একটা ক্লান্ত মেঘ ঝিলের ওপরে ঝুঁকে নিজে
হাঁশের ডানার থেকে শাদা শাদা জল নিয়ে গ্যালো
নিজের শরীরে মনে পুরোপুরি বৃষ্টি শিখবে

আমাদের ‘কাছে আসা’ অনেক পোশাক পড়ে থাকে
অনেক শব্দ আছে... প্রতিশ্রুতি আড়ম্বর আছে
চাকুরীপ্রার্থীর কাছে আঁট করা গলাবন্ধ সব
শিশুর হাসির মত এরা তবু স্বতস্ফূর্তঃ নয়
নিজেই মিলনকালে প্রেমিকার চুল খোলা নয়
হাতের উপরে লাগা গুঁড়ো গুঁড়ো আটার মতন
কোনো কোনো অনুভূতি পদ্মের মত একা ফোটে
পূর্ণ গ্রহণ হবে যদি স্বাবলম্বী উপলব্ধি দাও


আমন্ত্রিত

বললে হবে,খরচা আছে-ভবানীপ্রসাদ মজুমদার

জুটছে কারো কোপ্তা কাবাব-কারো ভাতের ফ্যান সার
লুটছে বা কেউ টিভির মজা,কারো টি.বি ক্যান্সার!
গাছতলাতে মামদো নাচে,পাঁচতলাতে ড্যান্সার
কিন্তু কেন ঘটছে এমন,কে দেবে তার অ্যান্সার?
কেউ থাকে রোজ অনাহারে,কেউ থাকে বেশ দুধে-মাছে
“বললে হবে,খরচা আছে!বললে হবে,খরচা আছে!”

পরের মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে অনেক দাদাই বাড়ি কেনে
নিত্যনতুন হালফ্যাশনের রংবেরং এর গাড়ি কেনে!
ছেলে-মেয়ে-বউএর তরে জামা-কাপড়-শাড়ি কেনে
আমরা তো সেই অন্ধকারেই,তেল জোটেনা হারিকেনে!
আমাদের রোজ বানিয়ে বোকা,মই কেড়ে নেয় তুলেই গাছে
“বললে হবে,খরচা আছে!বললে হবে,খরচা আছে!”

ঠ্যাংএর ওপর ঠ্যাংটি তুলেই পা দুলিয়েই চেয়ারে
দেশদরদী দাদা আমার কলপ লাগান হেয়ারে!
থচ এই দাদাই নাকি ব্যস্ত জাতির  কেয়ারে
লক্ষ-কোটি টাকা দাদার খাটছে সদাই শে্যারে!
দিন কাটে তার রেসের মাঠে,রাত কাটে রোজ বাইজি নাচে
“বললে হবে,খরচা আছে!বললে হবে,খরচা আছে!”

ব্যাঘ্র মারিং,হস্তী মারিং,মারিং রাজা-উজীর
দেশদরদী দাদারা সব হালুয়া খান সুজির!
দাদাদের তো চিন্তাই নেই রোজগার আর রুজির
কুজো হয়েই পুজো করেন পুঁজিপাতির পুঁজির
মন্ত্রিনেতার ছত্রছায়ায়,দাদারা সুখেই বাঁচে
“বললে হবে,খরচা আছে!বললে হবে,খরচা আছে!”
“বললে হবে,খরচা আছে!বললে হবে,খরচা আছে!”

তোমার ভগ্ন কপালে-রজতশুভ্র ব্যানার্জী

কৃষ্ণার ছিল পাঁচখানা বর,
কৃষ্ণকে পেল রাধা,
তোমার ভগ্ন কপালে জুটলো
দুই পেয়ে এক গাধা!

(দীর্ঘশ্বাস)

মুমতাজ পেল শাহ জাহানকে,
এভিটা পেয়েছে পেরন,
ব্যাঙ্গমীও যে ব্যাঙ্গমা পেল,
কোঁচ বকি পেল হেরন।
ক্লিওপাট্রার এন্টনি ছিল,
জুলিয়েট পেল রোমিও,
তোমার ভগ্ন কপালে জুটলো
গোবরডাঙার অমিয়!

রূপমতী পেল বাজ বাহাদুর,
মাজনুকে পেল লায়লা,
অঞ্জলী কত হাসিমুখে বলে
পেয়ারা সচীন আয়লা!
স্লিপিং বিউটি ঘুম চোখে পেল
চার্মিং রাজপুত্তুর,
তোমার ভগ্ন কপালে জুটলো
মুখপোড়া কোন শত্তুর!

(দীর্ঘশ্বাস!)

কৃষ্ণার ছিল পাঁচখানা বর,
কৃষ্ণকে পেল মামী,
তোমার ভগ্ন কপালে জুটলো
আর কেউ নয় আমি!

(প্রকাণ্ড দীর্ঘশ্বাস!)


একা মন-পৌষালী সেনগুপ্ত

হয়তো সে উদাসীন হয়তো সে ভীড়ে থেকে একা
রঙতুলি হারিয়েছে বহুদিন, ভুলে গেছে লেখা
তবুও সে খুঁজে ফেরে স্বপ্নের রঙে ডোবা তুলি
নাগরিক ধুলোপথে অমলিন চেনা স্মৃতিগুলি
খুঁজে ফেরে প্রতিমুখে হারানো সে মুখচ্ছবি কোনো
অবয়বে ভ্রম হয়, পিছু থেকে ডেকে ওঠে “শোনো”
ধবনি থেকে প্রতিধবনি শূন্য থেকে শূন্যে মাথা কোটে
সান্ধ্য আকাশ জুড়ে দ্বিতীয়ার চাঁদ তবু ওঠে
আকন্ঠ তৃষ্ণা তাই অকাতরে জোতস্না খুঁটে খায়
করাঘাত করে ফেরে অতীতের রুদ্ধ দরজায়
নিষ্ফল করা নাড়া, নিরন্তর আক্রোশে বেড়ে ওঠা ক্ষত
কত রাত ভোর হয়, অপেক্ষার পারে তবু নির্বাক বিগত।।


এক্স ব্রিড - ইন্দ্রনীল বক্সি

ঝকঝকে বাতাসিয়া হুল
নড়বড়ে করোনারি স্রোত
আলগোছে পুরাতনী গান
বাজারি মুলধনী-বুল

বেড়ে ওঠো সময়ের সন্ততি
বেড়ে ওঠো সময়ের আগে
বতকাট, ফরম্যালে, ল্যাপে
মেনে চলো ‘ব্রিড’ বংশগতি
দূরছাই, দূরে ঠেলো শাখা
অনুযোগি সব ব্যাটা ভুল
সমকামি,  বহুগামি প্রেম
ব্যাভারী, তেলচিটে- গন্ধমাখা

লুঠ করো সাময়িকি স্বর
বারোয়ারি গ্রাহ্য বিশেষ
‘হাই’ থেকো জুণ্টার দেশে
চাঁদ ক্ষুধা, যৌন ও জ্বর...

No comments:

Post a Comment